Monday, May 16, 2016

তুই থাক ভাই, আমি আসছি। একসঙ্গে জুটি বেঁধে কিছু বোঝানোর রয়েছে | রন্টি মার্টিন্স - গনশক্তি


লাল হলুদ ক্লাবের প্রতি নয়, রাগ ঝরে পড়ছে তাদের নয়া ব্রিটিশ কোচ ট্রেভর জেমস মরগ্যানের ওপর। কলকাতা থেকে নিজের দেশ নাইজেরিয়া উড়ে গিয়েও একই কথা বলছেন, ভেবেছিলাম আরও দুইবছর ইস্টবেঙ্গলের হয়ে খেলবো, তার আগে যে যতো ভালো প্রস্তাবই দিক না কেন, ক্লাব ছাড়বো না। কিন্তু আমি এ ক্ষেত্রে শুধু মরগ্যানকে নয়, মরগ্যানকে সামনে রেখে যে ক্লাব কর্তারা আমার পিছনে ছুরি মারলেন, তাঁদের কথা বলতে চাই।


বোঝা যাচ্ছে, বক্তা কে? ভারতে আসা অন্যতম সেরা বিদেশী সুপার ঈগল, রন্টি মার্টিন্স। যিনি তিনদিন পরে দেশে ফিরে গিয়েও একইরকম হুঙ্কার ছাড়ছেন। আর লাল হলুদ কোচের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ হিসেবে যাঁর মনে হচ্ছে মোহনবাগান খেললেই জবাব দেওয়ার আসল মঞ্চ হাজির হবে। নাইজেরিয়ার রাজধানী লাগোসের বাড়ি থেকে দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে বোঝাই গেলো তিনি আবারও আসছেন ময়দানে। নতুনভাবে, নতুন কিছু প্রমাণের জন্য।


প্রশ্ন : মোহনবাগানে খেলার সিদ্ধান্ত কী শেষমেশ নিয়েই নিলেন?


রন্টি : নিতে হতোই। না হলে ট্রেভর জেমস মরগ্যানের মতো কোচেরা বলতে শুরু করে দিতেন, রন্টি মার্টিন্স শেষ, ওকে ছেঁটে ভালোই করেছি। আমি এ ধরনের কথা শুনতে যাবো কেন? আমি নিজে ভালো করেই জানি আমার পক্ষে কতোটা দেওয়া সম্ভব। যে ফুটবলার সর্বোচ্চ স্কোরার হওয়ার পরেও শুনতে হয়, নিজের সেরাটা দিতে পারছে না। তাঁর পক্ষে জবাব দেওয়ার জন্য পাশের চিরপ্রতিপক্ষ ক্লাবেই নাম লেখাতে হয়। তবে এখনও কিছু কথাবার্তা বাকি রয়েছে, সেগুলি হয়ে গেলে সবুজ মেরুন কর্তারাই আমার কথা ঘোষণা করে দেবেন। 


প্রশ্ন : কবে ঠিক সিদ্ধান্ত নিলেন মোহনবাগানে খেলবেন?


রন্টি : বলতে পারেন যেদিন ইস্টবেঙ্গল ছাড়ার কথা ভেবেছিলাম। আমি মোহনবাগানকে বলেছি আমাকে একটা সুযোগ দাও, আমি প্রমাণ করে দেবো রন্টি শেষ হয়ে যাইনি। সব জায়গাতেই সম্মান আলাদা বিষয়, এরসঙ্গে অর্থ মেলানো ঠিক নয়। আমি কোনওদিন অর্থের পিছনে ছুটিনি, আমার পিছনে অর্থ ছুটেছে। সেদিক থেকে যেদিন ডেম্পো ছেড়েছিলাম সেদিনও কিছু ভাবিনি। কত পাবো, কত দেওয়া হবে, কী সুবিধে পাবো। স্রেফ চেয়েছিলাম আমি যে ক্লাবে খেলবো, তারা যেন আমাকে প্রাপ্য সম্মান দেয়, আমার কথা ভাবে। ইস্টবেঙ্গল পারলো না সেই বিষয়গুলিকে প্রাধান্য দিতে।


প্রশ্ন : কেন কী কারণে ইস্টবেঙ্গলের সঙ্গে আপনার লাগলো, কী সমস্যা?


রন্টি : কর্তাদের কিছু অংশ ভাবতে লাগলেন আমি হয়তো বিবি-র (বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্যকে এই নামে ডাকেন) লোক। তাই যদি হবে তা হলে কোচ চলে যাওয়ার পরে আমি কেন বিবৃতি দিতে গেলাম ওঁর বিপক্ষে। মিডিয়াকে তো বলেছিলাম, বিবি যদি পেশাদার কোচ হতেন, তা হলে এভাবে মাঝপথে দল ছেড়ে চলে যেতে পারতো না। কোচের প্লেয়ার হলে তো আমার জীবনই শেষ। আমি কোনওদিন কোচেস ম্যান হইনি, সেটি আমার অপছন্দেরও। আর বিবি কোচ থেকে চলে যাওয়ার পরেও তো দলকে গোল করে জিতিয়েছি, তা হলে এই কথা উঠছে কেন! কিন্তু আবারও বলবো, শুধু মরগ্যানকে দোষ দিয়ে লাভ নেই। ক্লাবে অনেক কর্তা পিছন থেকে আমার বিরুদ্ধে চক্রান্ত করেছেন। নাম বলবো না, কিন্তু তারা একদিন এরজন্য অনুশোচনা করবে। দলে গ্রুপ হয়ে গেলে সেই দল সফল হয় না, সেটাই ঘটেছে ইস্টবেঙ্গলের ক্ষেত্রে। আর এজন্য আগের কোচই ভুল করে গেছেন। কর্তারা মরগ্যানকে দিয়ে বলিয়ে দিলেন, রন্টি শেষ। সামনের মরশুমে দেখাবো শেষ হয়ে গিয়েছি কিনা।


প্রশ্ন : আপনি এতোটাই উত্তেজিত বারবার প্রতিশোধের কথা বলে ফেলছেন!


রন্টি : আমি কোনওদিন বলার লোক নই। খেলোয়াড় তো জবাব দেয় মাঠে নেমে। তাই এতোদিন দিয়ে এসেছি, কিন্তু আমার নামে অপবাদ দিলে মাথা ঠিক থাকে না। তাই মোহনবাগানের সঙ্গে কথা বলার পরেই সোনি নর্ডিকে ফোন করে বলে দিয়েছি, তুই থাক ভাই, আমি আসছি। একসঙ্গে জুটি বেঁধে কিছু বোঝানোর রয়েছে। 


শেষ প্রশ্ন : আপনি তো বলে দিলেন মোহনবাগানে খেলার জন্য মন দিয়ে ফেলেছেন, কিন্তু যদি অন্যথা হয়?


রন্টি : হলে, হবে। আমি চাইছি খেলতে। এখন কর্তারা ভাববেন, দলে একজন ভালো কোচ রয়েছেন, যাঁর সঙ্গে আমার সম্পর্ক ছেলে-বাবার। ডেম্পো ছেড়ে কলকাতায় প্রথম প্রয়াগে এলাম, সেইসময় আমার কোচ সঞ্জয় সেনই ছিলেন। উনি আমাকে বোঝেন, আমিও ওঁকে বুঝি। এবার ওঁকে কিছু ফিরিয়ে দিতে চাই। 

No comments:

Post a Comment