Tuesday, April 19, 2016

খুশির হাওয়া, মর্গান–স্পর্শে বদলে গেল ইস্টবেঙ্গল

ঘড়ির কাঁটায় তখন সকাল সাড়ে ৭টা। হাওড়া স্টেডিয়ামের মাঠের মাঝখানে দঁাড়িয়ে ৬ ফুট ২ ইঞ্চির ব্রিটিশ ভদ্রলোক। মেহতাব থেকে রন্টি— এক এক করে প্র্যাকটিসে ঢুকতে শুরু করেছেন। তঁাকে দেখেই ‘পড়ি কি মরি’ করে ড্রেসিংরুমে ঢুকে পড়লেন ইস্টবেঙ্গল ফুটবলাররা। সহকারী কোচ স্যামি ওমোলোর মারফত সাজঘরে নির্দেশ পৌঁছল, ৫ মিনিটের মধ্যেই সকলকে মাঠে দেখতে চান তিনি।

মঙ্গল–সকাল থেকেই ইস্টবেঙ্গলে কোচিংয়ের দ্বিতীয় ইনিংস শুরু ট্রেভর জেমস মর্গানের। ফুটবলারদের সঙ্গে প্রথমদিনের অনুশীলন দেখলে মনে হবে, কেমন যেন দমবন্ধকর পরিস্থিতি দূরে সরিয়ে লাল–হলুদ শিবিরে একমুঠো খোলা বাতাস। ঠিক যেন জাদু দণ্ডের ছোঁয়ায় বদলে যাওয়া ইস্টবেঙ্গল। আচমকা পুরো টিমটা যেন চেগে গেছে। দু’দলে ভাগ করে প্র্যাকটিস ম্যাচ চলার সময় ফুটবলারদের দেখে মনে হচ্ছিল, দু’টো অক্সিজেন সিলিন্ডার নিয়ে যেন মাঠে নেমেছেন। আই লিগ হাতছাড়া হয়ে রন্টিদের ঝিমিয়ে পড়া শরীরী ভাষায় হঠাৎ বদল!‌ প্র্যাকটিসের পর সাজঘরে ফুটবলারদের উদ্দেশে মর্গান বলে দিলেন, ‘যা যাওয়ার হয়ে গেছে, ওটা নিয়ে আর ভেবো না। সামনে ফেডারেশন কাপ। ওটাই এখন আমাদের টার্গেট। বেশিক্ষণ প্র্যাকটিস করব ‍না, যতটুকু সময় করব প্রত্যেকে নিজেদের উজাড় করে দিও। সঙ্গে মাঠে নেমে ফুটবল উপভোগ করো।’
নস্টালজিয়ায় ভাসছেন
তিন বছর পর ফের ইস্টবেঙ্গলে কোচের দায়িত্ব নিয়ে কাজ শুরু করে দিলেন। তবে, পিছনের দিকে ফিরে তাকাতে নারাজ মর্গান। বললেন, ‘তিন বছর পর ফিরে এসে এখন শুধু সামনের দিকে তাকাতে চাই। উইকেন্ডে আই লিগের শেষ ম্যাচ রয়েছে। আশা করি বেঙ্গালুরু এফ সি হারাবে মোহনবাগানকে। সেইসঙ্গে শিলং ম্যাচ জেতাই লক্ষ্য আমাদের। তা হলে আমাদের রানার্স হওয়ার সুযোগ রয়েছে। যতটা পারা যায় ভাল জায়গায় শেষ করতে চাই।’ লাজং ম্যাচের পরই ফেড কাপের প্রস্তুতি শুরু করতে চান ইস্টবেঙ্গলের নয়া কোচ।
টার্গেট ফেড কাপ
ফেড কাপ মর্গানের ‘লাকি’ টুর্নামেন্ট। তবে এখন তঁার ভাবনায় শুধুই শিলং ম্যাচ। মর্গানের কথায়, ‘শুনেছি ফেড কাপ এবার অন্য ফরম্যাটে হবে। কলকাতায় ফিরে ফেড কাপের স্কোয়াড তৈরি করব।’ শিলং ম্যাচের ১৮ জনের দল মঙ্গলবার তৈরি করে ফেললেন মর্গান। চোটের জন্য বাদ পড়েছেন বার্নার্ড মেন্ডি।
সুখী পরিবার
এর আগে মর্গান তিন বছর কোচ থাকাকালীন ইস্টবেঙ্গলের ড্রেসিংরুম ছিল সুখী পরিবার। সেটা এখনও বিশ্বাস করেন রন্টিদের হেড স্যর। বললেন, ‘ইস্টবেঙ্গল মানেই একটা পরিবার। কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে আমরা কাজ করব। এই টিমের বেশিরভাগ ফুটবলারই আমার চেনা। বেশ কিছু তরুণ প্লেয়ার রয়েছে। ৩–৪ দিন ওদের পর্যবেক্ষণে রাখব।’ ট্রফি জিতে মরশুম শেষ করতে চান ইস্টবেঙ্গল সারথি।
তুলনামূলক বেশি কঠিন 
২০১০–এ তিিন যখন এসেছিলেন, তখন ৮ বছর আই লিগের মুখ দেখেনি ইস্টবেঙ্গল। এবার ১৩ বছর। হাসছেন মর্গান। বলছেন, ‘অবশ্যই এবারের পরিস্থিতি তুলনামূলক বেশি কঠিন। পরের মরশুমে চাপ থাকবে আমাদের ওপর।’
কঠিন চ্যালেঞ্জ
সামনের মরশুমে কঠিন চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করে থাকলেও চলতি মরশুমে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন, মানতে নারাজ মর্গান। মুচকি হেসে শুধু বললেন, ‘সুন্দর পরিবেশ বিরাজমান। কোনও সমস্যা নেই।’
রানার্স সম্ভব?
শিলং ম্যাচ জিতলেও রানার্স হতে গেলে ইস্টবেঙ্গলকে তাকিয়ে থাকতে হবে মোহনবাগান–বেঙ্গালুরু ম্যাচের দিকে। মর্গান বলছেন, ‘রানার্স হওয়া ফুটবলারদের হাতে নেই। আমাদের অন্য টিমের ওপর নির্ভর করে থাকতে হবে। শেষ ম্যাচ জেতাই আমাদের লক্ষ্য।’
সমর্থকদের বার্তা
দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করে লাল–হলুদ সমর্থকদের উদ্দেশে মর্গান বললেন, ‘টিমকে সবসময় সাপোর্ট করুন। দলের ভাল সময়ে যেমন পাশে থাকবেন, তেমনই ম্যাচ হারলেও একইভাবে ফুটবলারদের পাশে থাকবেন।’
ফিটনেস আসল মন্ত্র 
সমালোচকরা অনেকেই বলছেন, ফুটবলারদের গড় বয়সই ইস্টবেঙ্গলের ব্যর্থতার অন্যতম কারণ। সেই তত্ত্ব উড়িয়ে মর্গান বলেন, ‘কলকাতায় সাফল্য না এলেই অনেক কথা ওঠে। মনে করি, বয়স কোনও ফ্যাক্টর নয়। ফিটনেসই আসল।’
জাদু দণ্ডের স্পর্শ
মর্গানের অনুশীলনের প্রথম দিনেই লাল–হলুদ ফুটবলাররা ফুরফুরে, চনমনে মেজাজে ধরা দিলেন। এর কারণ কী? মর্গানের মন্তব্য, ‘আমি সবে গতকাল এসেছি। আগের পরিস্থিতি আমার জানা নেই। ফলে এই প্রশ্নের উত্তর দিতে পারব না। শিলং ম্যাচ যদি হারি, সেই হারের কারণ আমাকে জানতে চাইলে বলতে পারব।’‌‌‌‌‌‌‌
source-aajkal

No comments:

Post a Comment