Tuesday, April 19, 2016

আলভিটো ম্যানেজার থাকলে মরগ্যানও হয়তো ইস্ট বেঙ্গলকে আই লিগ দিতে পারবেন না - রাতুল ঘোষ

কলকাতা ময়দানে দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করার আগে লাল-হলুদ ব্রিগেডের নতুন কোচ ও পুরানো বন্ধু ট্রেভর জেমস মরগ্যানকে স্বাগত জানাই। প্রথমেই বলে রাখি, তিন বছর ইস্ট বেঙ্গলের কোচ থাকাকালীন মর‌গ্যানও কিন্তু আই লিগ দিতে পারেননি। লাল-হলুদ সমর্থকদের এই হতাশা ও দীর্ঘশ্বাস দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে ঝরে পড়ছে। এই পর্বে ইস্ট বেঙ্গল প্রায় জনা দশেক কোচকে ‘হায়ার অ্যান্ড ফায়ার’ করেছে। সুব্রত ভট্টাচার্যের মতো ডাকাবুকো কোচও লাল-হলুদে টিকতে পারেননি। তাঁকে সরানোর পেছনেও আলভিটোর হাত ছিল। তারপর থেকে সুভাষ, মরগ্যান, আর্মান্দো কোলাসো, ফালোপা, এলকো শাত্তোরি এসেছেন-গিয়েছেন। তবু সাজানো গোছানো, ঝাঁ চকচকে লাল-হলুদ তাঁবুতে আই লিগ কিন্তু ঢোকেনি।
গত রবিবার বারাসত স্টেডিয়ামে ইস্ট বেঙ্গল সমর্থকরা একটা বিশাল ব্যানার নিয়ে আই লিগে ১৩ বছরের এই প্রলম্বিত ব্যর্থতার দিকে আঙুল তুলে কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করার প্রাণান্তকর চেষ্টা করেন। বারাসতে ওই ম্যাচ চলাকালীন লাল-হলুদ ম্যানেজার আলভিটো ডি’কুনহার বিরুদ্ধে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন ইস্ট বেঙ্গল সমর্থকরা। অনেকেই তাঁকে ছাপার অযোগ্য বিবিধ বিশেষণে বিদ্ধ করেন।

আলভিটো অবশ্য এরপরেও ইস্ট বেঙ্গলে বহাল তবিয়তে টিকে থাকবেন। কারণ, তাঁর মাথার উপর রয়েছে লাল-হলুদ ব্রিগেডের দুই শীর্ষকর্তার হাত। এই প্রসঙ্গে নিজের হোয়াটসঅ্যাপ প্রোফাইল পিকচারে আলভিটো লিখেছেন, ‘যদি আপনি মনে করেন সঠিক পথে চলছেন এবং তারপরেও লোকে আপনার সমালোচনা করে তবে সেটা আপনাকে আঘাত করলেও গায়ে মাখবেন না। ওসবে কান না দেওয়াই ভালো। ওরা চিৎকার করুক। একদম ঘাবড়াবেন না। খালি মনে রাখবেন, প্রতিটি ম্যাচেই দর্শকরা চিৎকার করে, কিন্তু ফুটবলাররা মাঠে খেলে, তারা চিৎকার করে না। নিজের উপর বিশ্বাস রাখাই আসল ব্যাপার। আর সেইসঙ্গে নিজের সেরাটা উজাড় করে দেওয়া।’
আলভিটোর এই দম্ভোক্তির নেপথ্যে রয়েছে ক্লাব সচিব কল্যাণ মজুমদারের অভয়বাণী। তিনি কখনও ফুটবলারদের বেতনভুক শ্রমিক বলছেন, কখনও ফুটবলারদের ‘ভিখারি’ বলেছেন। সেই ক্লাব সচিব যখন রবিবার লাল-হলুদ সমর্থকদের বারাসতে ওইরকম তুমুল বিক্ষোভের পরেও আলভিটোকে আশ্বস্ত করে বলেছিলেন, ‘সমর্থকদের কথায় কান দিও না। তোমার উপর আমাদের আস্থা রয়েছে। নিজের কাজ মন দিয়ে করে যাও।’ এরপরেই আলভিটোর এই দম্ভোক্তি। তিনি নিজেও লক্ষ লক্ষ লাল-হলুদ সমর্থকদের সেন্টিমেন্টের থোড়াই কেয়ার করেন।
স্পষ্টই বলা যায়, আলভিটো ম্যানেজার থাকলে মরগ্যান সাহেবেরও আই লিগ জেতা হয়তো আগামী মরশুমে সম্ভব হবে না। বাঙালি কোচের ওপর ভরসা নেই ইস্ট বেঙ্গল কর্তাদের। কিন্তু মরগ্যান সাহেব কি নিজে নেমে মাঠে খেলবেন? ইস্ট বেঙ্গলের অধিকাংশ ফুটবলারের সঙ্গে দু’বছরের চুক্তি করে রেখেছেন লাল-হলুদ কর্তারা। ডু ডং ছাড়া নতুন তিন বিদেশি ফুটবলার অবশ্য নিতে পারবে ইস্ট বেঙ্গল।
কিন্তু র‌্যান্টি মার্টিন্স আই লিগে ১২ গোল করার পর তাঁকে কি ছেঁটে ফেলতে পারবেন ইস্ট বেঙ্গল কর্তারা? ডু ডংয়ের সঙ্গে তো আবার তিন বছরের চুক্তি। সৌমিক দে, মেহতাব হোসেন, অভ্র মণ্ডলরা বছরের পর বছর লাল-হলুদে খেলে চলেছেন। এদের বয়স বাড়ছে, না কমছে? নতুন প্রতিভাবান ফুটবলার তুলে আনার দিকে রিক্রুটারদের তেমন নজর নেই। তাই একই মুখ ঘুরেফিরে খেলে চলেছে লাল-হলুদে। মেহতাব ও খাবরা এখন মূলত ৪৫ মিনিটের প্লেয়ার। কোচ মরগ্যানের কাছে দু’জনেই প্রিয় পাত্র। কিন্তু তাজা রক্তের যোগান দিতে না পারলে এই লাল-হলুদ ব্রিগেড নতুনভাবে সাজানো যাবে না। বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য ভদ্রলোক। তাই নিজে থেকেই ব্যর্থতার দায় মাথায় নিয়ে সরে গিয়েছেন। কিন্তু পদত্যাগপত্র লেখার পর তিনি এই প্রতিবেদককে বলেছিলেন, ‘ড্রেসিংরুম সামলানোর দায়িত্ব ছিল মূলত আলভিটো ও দেবজিতের উপর। কিছু ফুটবলার আমার বিরুদ্ধে ঘোঁট পাকানোর সাহস পেল কাদের মদতে?’ দেবজিৎও সহকারী কোচের পদে ইস্তফা দিয়ে সরে গিয়েছেন। কিন্তু টিকে গিয়েছেন একদা স্ট্রাইকার, কিন্তু বর্তমানে গোলরক্ষকদের কোচ সঞ্জয় মাঝি। তাঁর চাকরি বহাল থাকবে। কারণ বিশুর আমলের মতোই তিনিও টিমের সব গোপন খবর কতিপয় শীর্ষ কর্তার কানে চালান করে দেবেন। এটাই তাঁর টিকে থাকার ইউ এস পি।
Source - Bartaman

No comments:

Post a Comment