Tuesday, April 19, 2016

বার্সেলোনার হার মেসির কীর্তির আনন্দকে ম্লান করল

ভ্যালেন্সিয়া-২                                                      বার্সেলোনা-১
(র‌্যাকিটিচ-আত্মঘাতী, সান্তি মিনা)                             (মেসি)
দুঃসময় অব্যাহত বার্সেলোনার। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার-ফাইনাল থেকে বিদায়ের পর লা লিগাতে আবার পদস্খলন কাতালন ক্লাবটির। শনিবার ন্যু ক্যাম্পে বার্সাকে হারিয়ে লিগ জমিয়ে দিল ভ্যালেন্সিয়া। ৩৩ ম্যাচে ৭৬ পয়েন্ট সংগ্রহ করেছে বার্সেলোনা ও আতলেতিকো মাদ্রিদ। ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছে ৩৩ ম্যাচে ৭৫ পয়েন্ট পাওয়া রিয়াল মাদ্রিদও। গোল পার্থক্যে শীর্ষে থাকলেও লুই এনরিক-ব্রিগেডের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সে সিদুঁরে মেঘ দেখছেন অনেকেই। 

ফুটবলজীবনে শনিবারই আরেকটি মাইলস্টোন স্পর্শ করলেন মেসি। দেশ ও ক্লাব মিলিয়ে ৫০০তম গোলের স্বাদ পেলেন তিনি। আর্জেন্তিনার হয়ে ১০৭টি ম্যাচে তাঁর গোলসংখ্যা ৫০। বার্সেলোনার জার্সিতে ৫২৫টি ম্যাচে ৪৫০টি গোল করে ফেললেন এলএমটেন। তবে তাঁর এই কীর্তির আনন্দকে ম্লান করে দিয়েছে বার্সেলোনার হার। মেসির আগে এই মাইলস্টোন স্পর্শ করেছেন পেলে, রোমারিও, পুসকাস, গার্ড মুলার, উয়ে সিলার, ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো, ইউসেবিও, উগো সাঞ্চেজ, জিকো, আলফ্রেডো ডি স্তেফানো, জিমি গ্রিভস। টানা ৩৯টি ম্যাচ অপরাজিত থাকার পর বার্সেলোনার পারফরম্যান্সে হঠাৎই কেন ভাঁটার টান? বিশেষজ্ঞদের ধারণা, অত্যাধিক ম্যাচ এবং ডিপ ডিফেন্সের দুর্বলতাই এর প্রধান কারণ। শনিবার রক্ষণের ভুলেই ভ্যালেন্সিয়ার বিরুদ্ধে দু’টি গোল হজম করতে হয়েছে বার্সাকে। ২৬ মিনিটে গোমসের পাস যখন সিকুয়েরার কাছে আসে তখন তিনি সম্পূর্ণ অরক্ষিত। তাঁর মাইনাস র‌্যাকিটিচের পায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে প্রথম পোস্ট দিয়ে গোলে ঢোকে (১-০)। প্রথমার্ধের সংযোজিত সময়ে জেরার্ড পিকে এবং সের্গি রবার্তোর ভুলে দ্বিতীয় গোল তুলে নেয় ভ্যালেন্সিয়া। বিপক্ষের দুই ডিফেন্ডারের মধ্যে দিয়ে মুনোজের পাস ধরে ক্লদিও ব্র্যাভোকে সহজেই হার মানান সান্তি মিনা (২-০)। 
দ্বিতীয়ার্ধে একের পর এক আক্রমণ শানিয়েও ম্যাচে সমতা ফেরাতে ব্যর্থ হয় বার্সা। এর সিংহভাগ কৃতিত্ব ভ্যালেন্সিয়ার গোলরক্ষক আলভেসের। এই পর্বে তিনি কমপক্ষে চারবার মেসি-নেইমার-সুয়ারেজদের গোলের প্রচেষ্টা রুখে দেন। ৬৩ মিনিটে দলের একমাত্র গোলটি আসে মেসির পা থেকেই। বাঁ দিক থেকে ওভারল্যাপে ওঠা জর্ডি আলবাকে বল ঠেলে দিয়েই দ্রুত জায়গা নেন মেসি। ফিরতি পাসে তাঁর মাপা ফ্লিক আশ্রয় নেয় জালে (২-১)। ঘরের মাঠে এই হার মানতে পারেননি নেইমার। খেলা শেষ হওয়ার পর টানেলে ঢোকার মুখে তিনি ধাক্কা মারেন ভ্যালেন্সিয়ার এক ফুটবলারকে। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে লুই এনরিকও কিঞ্চিৎ মেজাজ হারান। তবে জেরার্ড পিকে মনে করেন, লিগ জয়ের সম্ভাবনা এখনও তাঁদের রয়েছে।
বার্সার হারে বিস্মিত ফিগো-রাউলরা: বার্সেলোনার পদস্খলনে লা লিগার খেতাবি দৌড় আরও জমে উঠল বলেই মনে করেন লুই ফিগো, রাউল গঞ্জালেজ ও কার্লোস পুওল। লরিয়াস ওয়ার্ল্ড স্পোটর্স অ্যাওয়ার্ডস উপলক্ষ্যে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনের পরে রিয়াল মাদ্রিদের প্রাক্তনী রাউল বলেন, ‘লা লিগা এই মুহূর্তে বিশ্বের কঠিনতম লিগ। বার্সেলোনাকে হারিয়ে ভ্যালেন্সিয়া লিগ আরও জমিয়ে দিয়েছে। প্রথম তিনটি দলের মধ্যে যে কেউ চ্যাম্পিয়ন হতে পারে।’
রাউলের প্রতিধ্বনি শোনা যায় লুই ফিগোর কণ্ঠেও। অতীতে বার্সেলোনা ও রিয়াল মাদ্রিদ, দু’টি ক্লাবের হয়েই খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে পর্তুগালের প্রাক্তনীর। তাঁর বিশ্লেষণ, ‘শেষ ছ’টির মধ্যে বার্সার চারটি হার মেনে নেওয়া কঠিন। কেন এরকম হচ্ছে তা বলা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। তবে ছন্দে ফিরতে খুব বেশি সময় নেবে না মেসি-নেইমাররা। শুধু ফুটবল কেন, যে কোনও খেলাতেই উত্থান-পতন থাকেই। এটা মেনে নিতেই হবে।’ বার্সেলোনার প্রাক্তন অধিনায়ক কার্লোস পুওল মনে করেন, দ্রুত স্বাভাবিক ফর্মে ফিরবে তাঁর দল। বলেন, ‘এরকম অবস্থা থেকে আগেও ফিরে এসেছে বার্সা। লা লিগা এখন অনেক বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ।

No comments:

Post a Comment